Monday, 27 November 2017

লুইস-তাণ্ডবে ভেস্তে গেল চিটাগংয়ের কোয়ালিফায়ার স্বপ্ন

ইনিংসে দারুণ ভিত্তি দিয়েছিলেন রনকি-এনামুল। কিন্তু বোলারদের ব্যর্থতায় আবারও ম্যাচ হাত থেকে ফসকে গেছে। ছবি প্রথম আলো।চট্টগ্রাম-পর্বে যেন প্রাণ পেয়েছে বিপিএল। এই পর্বে এসেই তো চিটাগং ভাইকিংস প্রথম ম্যাচেই তুলেছে ২১১ রান; যা এবারের বিপিএলের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। ভালো ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতায় আজ ঢাকার বিপক্ষেও ১৮৭ রান করেছে স্বাগতিক দল। তবে এভিন লুইস আর জো ডেনলির ঝড়ের সামনে ধোপে টেকেনি এই সংগ্রহ। সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস ৭ উইকেটে হারিয়েছে ভাইকিংসদের। আর এই হারে কোয়ালিফায়ারের স্বপ্ন একরকম শেষ হয়ে গেল দলটির।
টসে জিতে ব্যাট করতে নামা চিটাগংয়ে ওপেনার সৌম্য ফেরেন ১ রানে। কিন্তু দ্বিতীয় উইকেটে ১০৭ রানের জুটিতে ঢাকাকে চাপে ফেলে দেন রনকি ও এনামুল হক। এই টুর্নামেন্টে নিজের দারুণ ফর্ম ধরে রেখে আজও ফিফটি পেয়েছেন রনকি; করেছেন ৪০ বলে ৫৯ রান। অন্য প্রান্তে আরও আগ্রাসী ছিলেন এনামুল।

আসরের দ্বিতীয় ফিফটিতে ৪৭ বলে ৭৩ রান করেছেন এনামুল। যদিও ভুল বোঝাবুঝিতে স্টিয়ান ফন জিলকে রান আউট করানোর যন্ত্রণাও তাঁকে পোহাতে হয়েছে। শেষ দিকে সিকান্দার রাজার ১১ বলে ২৬ রানের বদৌলতে ১৮৭ রান তোলে ভাইকিংস।

রান তাড়া করতে গিয়ে ১ রানেই শহীদ আফ্রিদির উইকেট হারায় ঢাকা। এরপর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ১১৮ রান তুলে সব চাপ হাওয়ায় ভাসিয়ে দেন এভিন লুইস ও জো ডেনলি। ৩১ বলে ৭৫ রান করেছেন লুইস। ১২৪ রানে ডেনলিও আউট হলে কিছুটা চাপে পড়েছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু ক্যামেরন ডেলপোর্ট আর সাকিব আল হাসানের অবিচ্ছিন্ন ৬৭ রানের জুটিতে এক ওভার হাতে রেখেই ম্যাচ জিতে নিল ঢাকা।
সুনীল নারাইন বাদে বল হাতে দুই দলের কোনো বোলারই সাফল্য পাননি। ১৪টি ডট বল দিয়ে ১১ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন এই ক্যারিবীয় স্পিনার। তবে এভিন লুইসের ঝড়ে সবকিছু ম্লান হয়েছে। ৯ ছক্কা আর ৩ বাউন্ডারিতে ৭৫ রান করেছেন এই ওপেনার। যে কারণে ১৮৮ রানের বড় লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েও ম্যাচ জিততে পারেনি চিটাগং। ম্যান অব দ্য ম্যাচ তাই ঢাকা ডায়নামাইটসের এই ক্যারিবীয় ওপেনার।

Thursday, 16 November 2017

ম্যাচের মধ্যেই মেসি বললেন, ‌‘বার্সায় খেলবে?’



পাওলিনহোকে বার্সায় এনেছিলেন মেসি। ফাইল ছবিবার্সেলোনায় খেলার প্রস্তাব দেওয়ার জন্য মুহূর্তটা খুব আদর্শ ছিল—এটা বললে ভুল হবে। ম্যাচ চলছে বিশ্ব ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের মধ্যে। এর মধ্যেই কিনা মেসি পাওলিনহোকে প্রস্তাব দিলেন বার্সেলোনার জার্সি গায়ে দেওয়ার! অবাক করার মতোই বিষয়। 
ঘটনাটা জানিয়েছেন পাওলিনহো নিজেই। এই মৌসুমে বার্সেলোনায় এসেই যিনি নিজেকে দারুণভাবে চিনিয়ে যাচ্ছেন। বার্সার মধ্যমাঠে তিনি ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছেন নিজের অপরিহার্যতা। লা লিগায় এখনো পর্যন্ত তিনটি গোল করে নিজের গোল করার ক্ষমতারও প্রমাণ রেখেছেন।
বার্সায় খেলার প্রস্তাবটা যেভাবে পেয়েছিলেন, সেটি ভাবলে পাওলিনহো নিজেই অবাক হয়ে যান, ‘ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার একটি ম্যাচে মেসি আমাকে সেই প্রস্তাবটা দিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ায় হচ্ছিল খেলাটি। আমরা সেই মুহূর্তে একটা ফ্রিকিক পেয়েছিলাম। আমি আর উইলিয়ান বলের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলাম। মেসি একটু দূরে। উইলিয়ান ফ্রিকিকটা নেওয়ার জন্য যখন তৈরি হচ্ছে, আমি একটু পিছিয়ে আসি। সে সময় মেসি আমার কাছে এসে বলে, “বার্সেলোনায় খেলবে?”’
সঙ্গে সঙ্গেই পাওলিনহোর ইতিবাচক সাড়া দিয়েছিলেন, ‘আমি বললাম, তুমি যদি আমাকে বার্সায় নিতে চাও, আমি অবশ্যই যাব। মেসি বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। তাঁর মুখ থেকে যদি এমন প্রস্তাব কেউ পায়, সেটা অবশ্যই তাঁকে আনন্দিত করবে। আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। যে পরিস্থিতিতেই হোক, বিশ্বের সেরা ফুটবলারের পাশে খেলাটা বিশেষ কিছু। এটা এমন একটা ব্যাপার, যা নিয়ে সারা জীবন ধরে ছেলেমেয়েদের সঙ্গে গল্প করা যায়। প্রস্তাবটা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি হতভম্বই হয়েছিলাম। তবে খেলা চালিয়ে যেতে সমস্যা হয়নি।’
মেসি তাঁকে আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পাওলিনহোর বার্সেলোনায় পা রাখার পেছনে আর্জেন্টাইন তারকার বড় অবদান। তবে পাওলিনহোর বার্সায় আসার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন স্বদেশি নেইমারও। মৌসুমের শুরুতে বার্সা ছেড়ে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে পা রাখা নেইমার তাঁকে উৎসাহিত করেছেন। অভয় দিয়েছেন। বার্সেলোনার প্রশংসা করে বলেছেন, ক্যারিয়ারের জন্য এই ক্লাব কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাওলিনহো জানিয়েছেন নেইমারের ব্যাপারটিও, ‘নেইমার আমাকে বলেছে, বার্সেলোনা গেলে তোমার ভালো লাগবে, দারুণ একটা ক্লাব এটি। বার্সেলোনায় নাম লেখালে তুমি খুশিই হবে।’
ব্রাজিলীয় এই তারকা বার্সেলোনায় আসাটা অনেকেই নেতিবাচকভাবে দেখেছিল। সর্বশেষ কয়েক মৌসুম চীনা লিগে গুয়াংজুর হয়ে খেলা পাওলিনহো বার্সেলোনার জন্য কতটা উপযোগী খেলোয়াড়—সবার চিন্তার জায়গাটা ছিল তা নিয়েই। তবে পাওলিনহো বলছেন, সমালোচনা নিয়ে তিনি ভাবেন না, ‘সমালোচনা ফুটবলেরই অংশ। সমালোচনা ছাড়া ফুটবলই হয় না। আমি সমালোচনার মধ্যেও অবিচল থাকার পদ্ধতিটা শিখে গেছি গত কয়েক বছরে।’
এই মুহূর্তে পাওলিনহোর একমাত্র ভাবনা বার্সেলোনার হয়ে ভালো খেলা, ‘আমি আমার কাজটা নিয়ে মনোযোগী। আমি বার্সার হয়ে ভালো করতে চাই। ক্লাবটিকে ভালো করতে সহায়তা করতে চাই। তারা আমার সামর্থ্যের ওপর আস্থা রেখেছে। আমাকে এখানে নিজের সেরাটাই দিতে হবে। সবকিছু ভুলে আমাকে এটিই করতে হবে।’ সূত্র: গোল ডটকম।
আরও সংবাদ

সর্বোচ্চ গোলদাতাদের মাঝে নেই মেসি-রোনালদো!



পুসকাসের গোল-ক্ষুধার কাছে হার মেনেছেন সবাই। ফাইল ছবিজাতীয় দলের হয়ে সাফল্যটা একটু পাশে সরিয়ে রাখা যাক। ক্লাব ফুটবল মানেই তো লিওনেল মেসি আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জয়জয়কার। ক্লাব ফুটবলের সব রেকর্ড যেন নিজেদের দখলে নেওয়ার পণ করেছেন দুজন। প্রতি মৌসুমেই কদিন পরপরই শিরোনাম দেখতে হয়, ‘এবার “এই” রেকর্ড ভাঙলেন মেসি/রোনালদো!’ অথচ সর্বোচ্চ লিগ গোলের হিসাব করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, রেকর্ডের ধারেকাছেও নেই এ দুজন!
আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাস এবং পরিসংখ্যান ফেডারেশন অনেক বছর ধরেই ফুটবল লিগগুলোতে সর্বোচ্চ গোলাদাতাদের নিয়ে গবেষণা করছে। সে গবেষণার ফল অবশেষে প্রকাশিত হলো। প্রত্যেক ফুটবলার বিভিন্ন দেশের শীর্ষ লিগে যত গোল করেছেন, সে হিসাবই দেওয়া হয়েছে এখানে। আর এতে যোজন যোজন এগিয়ে চূড়ায় বসে আছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়দের একজন, ফেরেঙ্ক পুসকাস। হাঙ্গেরিয়ান এই কিংবদন্তি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করেছেন বুদাপেস্ট ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে। এ সময়ে শুধু লিগ ম্যাচেই ৫১১ গোল করেছেন এই কিংবদন্তি।
দুইয়ে আছেন পুসকাসেরই স্বদেশি ইমরে স্ক্লোসের। ৪১৭ গোল করা এই ফুটবলার বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে মাতিয়েছেন হাঙ্গেরিয়ান ও অস্ট্রেলিয়ান লিগ। মাত্র ৩১৮ ম্যাচ খেলেই এমন অবিশ্বাস্য গোল রেকর্ড গড়েছেন স্ক্লোসের। তিনে থাকা ব্যক্তিটিও হাঙ্গেরির! ত্রিশ ও চল্লিশের দশকে হাঙ্গেরি দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ গিউলা সেনগেলার মাত্র ১ গোলের ব্যবধানে আছেন তিনে (৪১৬)।
মজার ব্যাপার শীর্ষ দশেও জায়গা হয়নি রোনালদো ও মেসির। ৩৭৩ গোল নিয়ে দ্বাদশ অবস্থান রিয়াল ফরোয়ার্ডের। আর বার্সেলোনার মধ্যমণি ৩৬১ গোল নিয়ে হয়েছেন ১৬তম। সূত্র : মার্কা।
শীর্ষ লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা
ফুটবলার
গোল
ম্যাচ
ফেরেঙ্ক পুসকাস (হাঙ্গেরি)
৫১১
৫৩৩
ইমরে স্ক্লোসের (হাঙ্গেরি)
৪১৭
৩১৮
গিউলা সেনগেলার (হাঙ্গেরি)
৪১৬
৩৯৪
জেমস ম্যাকগ্ররি (স্কটল্যান্ড)
৪১০
৪০৮
জার্ড মুলার (জার্মানি)
৪০৫
৫০৭
রজার মিলা (ক্যামেরুন)
৪০৫
৭১২
হুগো সানচেজ (মেক্সিকো)
৪০০
৬৮৪
ফেরেঙ্ক সুসজা (হাঙ্গেরি)
৩৯৩
৪৬২
কার্লোস বিয়াঞ্চি (আর্জেন্টিনা)
৩৮৫
৫৪৬
আনফ্রেডো ডি স্টেফানো (আর্জেন্টিনা)
৩৭৭
৫২১

মেসিই জিতছেন এবারের ব্যালন ডি’ অর?



প্রচ্ছদের ছবি। আসল না ভুয়া? ছবি: ট্রিবিউনা।২০১৭ সালের ব্যালন ডি’ অরের ঘোষণা আসতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। ফ্রান্স ফুটবলের এই পুরস্কারে এবারও প্রধান দুই ফেবারিট ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি। রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড এবারে ফিফা ‘দ্য বেস্ট’ শিরোপা জিতেছেন। গত কয়েক বছরের রীতি মাথায় রাখলে রোনালদোরই এই পুরস্কার পাওয়ার কথা। অথচ ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে কিনা মেসির ছবি। তবে কি মেসিই জিতছেন এবারের ব্যালন ডি’ অর?
ডিসেম্বরেই এই পুরস্কার দেওয়ার কথা। ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিন ডিসেম্বরের ৭ তারিখেই ঘোষণা করবে বিজয়ীর নাম। সাধারণত ডিসেম্বর সংখ্যায় ব্যালন ডি’ অর বিজয়ীর ছবিই প্রচ্ছদে রাখা হয়। কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনের ডিসেম্বর সংখ্যার ছবি ‘ভাইরাল’ হয়, যেখানে প্রচ্ছদে মেসির ছবি দেখা যায়। এই নিয়ে মেসি ও বার্সেলোনা-ভক্তরা মনে করছেন পুরস্কার জিতবেন আর্জেন্টাইন ফুটবলার। অন্যদিকে রোনালদো ও রিয়ালভক্তদের দাবি, ছবিটি ভুয়া, আসলে পুরস্কার জিতবেন পর্তুগাল অধিনায়কই।
৭ তারিখ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করবেন সাবেক ফুটবলার ডেভিড গিনোলা। এর আগ পর্যন্ত কে পুরস্কার জিতবেন, তা নিশ্চিত করে বলবার উপায় নেই। সূত্র: স্পোর্ট ইংলিশ, ট্রিবিউনা।

Sunday, 12 November 2017

নেপালের কাছে হেরে গেল ভারত!



যুবাদের এশিয়া কাপে অঘটন ঘটেইচলেছে। ফাইল ছবি
গতকাল বাংলাদেশকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল নেপাল। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে জয়ের জন্য ম্যাচের শেষ ওভার পর্যন্ত যেতে হয়েছিল বাংলাদেশের যুবাদের। আজ আর কাঁপানো নয়, ভারতকে হারিয়েই দিল নেপাল অনূর্ধ্ব-১৯ দল। অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের তৃতীয় দিনে ভারতকে ১৯ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় চমক দিয়ে দিলে তাদের প্রতিবেশীরা।
ভারতকে এমন লজ্জা উপহার কাজটা বলতে গেলে একাই করেছেন দিপেন্দ্র সিংহ। অধিনায়কের ১০১ বলে ৮৮ রানেই নির্ধারিত ৫০ ওভারে ১৮৫ রান তুলেছে নেপাল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৬ রান (৯৫ বলে) করেছেন ওপেনার জিতেন্দ্র সিং ঠাকুরী।তাড়া করতে নেমে দুর্দান্ত শুরু করেছিল ভারত। উদ্বোধনী জুটিতেই ৬৫ রান তুলের ফেলেন হিমাংশু রানা ও মনজোত কালরা। কিন্তু ত্রয়োদশ ওভারে রানার (৩৮ বলে ৪৬ রান) বিদায়ের পর পথ হারায় ভারত। আবির্ভাব ঘটে দিপেন্দ্রর। মিডিয়াম পেসে ৩৯ রানে ৪ উইকেট তুলে ফেলেন নেপাল অধিনায়ক। ১১ বল বাকি থাকতে ১৬৬ রানে অল আউট হয় ভারত। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে ভারতকে ব্যাটে-বলে বলতে গেলে একাই হারিয়ে দিলেন দিপেন্দ্র!এর আগে শুক্রবার পাকিস্তানকে ৭ উইকেতে হারিয়ে চমক জাগিয়েছিল আফগানিস্তান। কিন্তু আজ নেপালের এ জয় ছাড়িয়ে গেলে সেটাও। এ মাসের শুরুতেই বাংলাদেশে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে এসে তিন ম্যাচের একটিতে জয় পেয়েছিল নেপাল। যুব এশিয়া কাপে এই দুটি দলের ওপর আলাদা করে চোখ রাখতেই হচ্ছে।

Friday, 27 October 2017

চার-ছক্কা মেরেই তো ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ!

বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিং নয়, হাঁকানোই ব্যাটসম্যানদের লড়াইয়ের মূলমন্ত্র। ছবি: এএফপিটি-টোয়েন্টি চার-ছক্কার খেলা? লোকে তো তা-ই বলে। কাল চার-ছক্কা থেকে বাংলাদেশ নিয়েছে ৯৮ রান। দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়েছে ৮৮ রান। তাহলে? বাউন্ডারিতে ১০ রান বেশি নিয়েও ২০ রানে ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। কারণ? রান মানে হলো দৌড়, ক্রিকেট রানের খেলা মানে দৌড়ের খেলা। আর বাংলাদেশ এই সিঙ্গেলগুলোই বের করতে পারে না। একাধিক ডট বল সর্বনাশ ডেকে আনে। কালকের ম্যাচের গল্পটাও একই রকম।
বেশি চার-ছক্কা মেরেও লাভের খাতায় যোগফল শূন্য। এই হারের কাটাছেঁড়া করতে গেলে হয়তো অনেক কারণই উঠে আসবে। তবে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রেখেছে ‘ডট বল’! টানা কয়েকটি ডট বল ব্যাটসম্যানদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটায়। ব্যাটসম্যান ঝুঁকি নিতে চান। উড়িয়ে মারতে চান, ডাউন দ্য উইকেটে আসেন, যে শট না খেললেও হতো, সেই শট খেলেন...কি, কাল সাব্বিরদের আউট হওয়ার ধরনগুলো চোখে ভাসছে তো?
অথচ, দক্ষিণ আফ্রিকার রানের পাহাড় থেকেই শিক্ষা নিতে পারত বাংলাদেশ। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান এ বি ডি ভিলিয়ার্স, ডেভিড মিলাররা এই দলে খেলেন। চার-ছক্কা মারতেই তাঁরা ভালোবাসেন। তবু দক্ষিণ আফ্রিকার রানের বণ্টন দেখুন। ৪টি ছক্কা, ১৬ বাউন্ডারি মিলিয়ে মোট ৮৮ রান। ‘মি. এক্সট্রা’ থেকে যোগ করুন আরও ১০ রান। ইনিংসের বাকি ৯৭ রান তাঁরা ‌চুরি করেছেন সিঙ্গেলস-ডাবলস থেকে, টি-টোয়েন্টির ইতিহাসেই যা রেকর্ড!
এই রানের পাহাড় দাঁড় করাতে গিয়ে প্রোটিয়াদের ছাড় দিতে হয়েছে ২২টি ‘ডট বল’। তার জবাবে বাংলাদেশে হেঁটেছে সেই পুরোনো পথে—সামনে রানের পাহাড় মানেই কচুকাটা করো! কিন্তু অলক্ষ্যে কোপটা পড়েছে নিজেদের পায়েই। পরিসংখ্যান বলছে, চার-ছক্কা ও অতিরিক্ত খাত থেকে প্রোটিয়াদের চেয়ে বেশি রান নিয়েও পারেনি বাংলাদেশ। ৭ ছক্কা থেকে এসেছে মোট ৪২ রান। ১৪ বাউন্ডারি থেকে আরও ৫৬ এবং ‘মি. এক্সট্রা’ থেকে ১৪। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে ১১২। সিঙ্গেলস-ডাবলস থেকে এসেছে মাত্র ৬৩!
সবচেয়ে দুশ্চিন্তার কথা হলো, বড় সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে স্ট্রাইক অদল-বদলের ‘বেসিক’ ভুলে গেছে বাংলাদেশ। মানে, বলে-বলে সিঙ্গেলস নিয়ে চাপ কমানোর কৌশলটা অন্তত প্রোটিয়াদের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে খুব একটা দেখা যায়নি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে। তা না হলে, হারের সঙ্গে একটি-দুটি নয়, ৪৫টি ‘ডট বল’-এর কলঙ্ক লেগে থাকত না। ২০ ওভারের খেলায় সাড়ে সাত ওভার তো রানই তুলতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা!
হারের পর অধিনায়ক সাকিব কিন্তু এ কথাটাই মনে করিয়ে দিলেন ব্যাটসম্যানদের, ‘বেশ কিছু জায়গায় উন্নতি করতে হবে। ডট বল সমস্যা নিয়ে আমরা কথা বলেছি। এটা ভুগিয়েছে। আক্রমণের সঙ্গে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের দরকার ছিল।’
টি-টোয়েন্টিতে ‘ডট বল’ দেওয়ার খেসারত কতটা মারাত্মক, সেটি নতুন করে বলার কিছু নেই। যেমন ধরুন, ৪৫টি ‘ডট বল’-এর মধ্যে থেকে বাংলাদেশ যদি এক এক করে এর অর্ধেক রানও নিতে পারত, তাহলে কিন্তু ম্যাচটা জেতা হতো। এ ম্যাচে যেহেতু তা সম্ভব হয়নি, সৌম্য সরকার তাই ভুল শুধরে নিতে চান পরের ম্যাচে, ‘ডট বল টি-টোয়েন্টিতে অনেক বড় জিনিস। আমরা যখন বোলিং-ফিল্ডিং করেছি, তখন যদি কিছু রান কম দিতাম যেমন—রুবেল ভাইয়ের নো বলে ওয়াইড, ফিল্ডিংয়ে কিছু মিস হয়েছে। ওই রানগুলো আটকাতে পারলে ওদের স্কোর হয়তো ১৭০-এর মতো থাকত। পরের ম্যাচে ডট বল যদি কম দিতে পারি স্কোরটা আরও বড় হবে।’
আরও সংবাদ

‘তাসকিনের গতি নেই, কাটার নেই মোস্তাফিজের’

তাসকিনের পারফরম্যান্স নিয়ে চিন্তিত বিসিবি সভাপতি। ছবি: এএফপিমাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে বাংলাদেশের পেস বোলিং আক্রমণে নতুন একটা যুগের সূচনা হয়েছে গত দুই বছরে। যে আক্রমণে অন্যতম দুই ভরসা মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে এই দক্ষিণ আফ্রিকা সফর—দুজনই হতাশ করেছেন। মোস্তাফিজ তো সফর অসমাপ্ত রেখেই দেশে ফিরেছেন। তাসকিন এখনো পাননি বলার মতো সাফল্য।
মোস্তাফিজ-তাসকিনের এই ছন্দ হারিয়ে ফেলাটা ভাবাচ্ছে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানকেও। শুক্রবার গুলশানে নিজ বাসভবনে সংবাদমাধ্যমের সামনে নাজমুল বাংলাদেশ পেস বোলারদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ এভাবে করলেন, ‘রুবেল আগের মতোই বোলিং করছে। মাশরাফিও আগের মতোই আছে। সমস্যা হচ্ছে দুটো বোলারকে নিয়ে। গত চার বছরে এই দুই বোলারই কিন্তু আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছে।’
মোস্তাফিজ-তাসকিন কেন ছন্দ হারিয়ে ফেলেছেন, সেটিও জানা বিসিবি সভাপতির, ‘শুরু থেকে দেখেছি, তাসকিন জোরে বোলিং করে। হঠাৎ করে তার লাইন-লেংথ একদমই খারাপ হয়ে গেছে। শুধু এই সিরিজে নয়, আগে থেকেই এটা হচ্ছে। গতিটাও আগের চেয়ে কমে গেছে! ওর একটা সমস্যা হয়েছে। কী সমস্যা, সেটা দেশে ফেরার পর দেখা হবে। আরেকজন বোলার হচ্ছে মোস্তাফিজ। সন্দেহ নেই, সে আমাদের সেরা পেসার। ওর বোলিং কিন্তু খারাপ হচ্ছে না। তবে কাটার আর আগের মতো হচ্ছে না। লাইন-লেংথ-গতি ঠিক আছে। আমাদের বলা হয়েছিল (অস্ত্রোপচারের পর) আগের অবস্থায় আসতে ওর এক বছর লাগবে। মোস্তাফিজকে নিয়ে আমাদের চিন্তা নেই। আশা করি, শিগগির সে ফিরে আসবে।’
দুই বোলারের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও নাজমুলের তৃপ্তি অন্যখানে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি বাংলাদেশ যেভাবে লড়েছে, তাতে খুশি বিসিবি–প্রধান, ‘যে বাংলাদেশকে দেখে আসছি, সেই দলের সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছিলাম না। দলের মনোভাব কেমন যেন লাগছিল। এই ম্যাচের আগে ওদের বললাম যে বাংলাদেশকে চিনি, সেভাবে খেল। এত বড় ব্যবধানে হারছি, সেটা বড় ব্যাপার নয়। তবে খেলার আগেই মনে হচ্ছে, খেলাটা ছেড়ে দিচ্ছি। আমরা যে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করতে পারি, সেটা দেখা যাচ্ছে না। বলেছি, ওদের প্রতিমুহূর্তে চ্যালেঞ্জ ছোড়াটা দেখতে চাই। এতে করে কাল খেলাটা ভালো হয়েছে। খেলা শেষে সাকিবকে এসএমএস পাঠাই, ‘‘ওয়েল প্লেইড’’। পরে ওর সঙ্গে কথা হলে বলল, আপনি ‘‘ওয়েল প্লেইড’’ বললেন, কিন্তু আমরা তো জিততে পারেনি!’

Sunday, 22 October 2017

নেইমারের লাল কার্ড, কাভানিতে রক্ষা পিএসজির

লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ছেন নেইমার। ছবি রয়টার্স।ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ফুটবলার, খবরের শিরোনামে তো তিনি থাকবেনই। তবে এবার তিনি খবর হয়েছেন ভুল কারণে। গত রাতে ফরাসি লিগ ওয়ানে পিএসজির ম্যাচে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছেন ব্রাজিল অধিনায়ক। গুরুত্বপূর্ণ ‘দ্য ক্ল্যাসিক’ ম্যাচে অলিম্পিক ডি মার্শেইয়ের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছে টেবিলের শীর্ষে থাকা ক্লাবটি।
লিগ ওয়ানে পিএসজির কোনো নগর প্রতিদ্বন্দ্বী নেই, তাই ডার্বি ম্যাচেরও প্রশ্ন ওঠে না। মার্শেইয়ের বিপক্ষে ম্যাচটা তাই অনেকটা ডার্বির মর্যাদা পেয়ে নাম নিয়েছে ‘দ্য ক্লাসিকো’। স্তাদে ভেলোড্রোমে নিজেদের মাঠে পিএসজিকে ১৫ মিনিটেই চমকে দেয় মার্শেই। মাঝমাঠ থেকে দৌড়ে এসে ডি-বক্সের বাইরে থেকে লম্বা শটে গোল করেন লুইজ গুস্তাভো। এই মৌসুমেই মার্শেইতে খেলতে এসে সপ্তম ম্যাচে নিজের প্রথম গোল পেলেন ব্রাজিলের এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। ম্যাচের বয়স ৩০ মিনিট পার হতেই অবশ্য নেইমারের গোল সমতা ফেরায় পিএসজি। বক্সের ভেতর রাবিওতের কাট ব্যাক থেকে গোলটি করেন তিনি।

ফ্রি কিকে গোল করে কাভানির বুনো উল্লাস। ছবি রয়টার্স।নেইমারের লাল কার্ড দেখায় মার্শেইয়ের ডিফেন্ডার সাকাই হয়তো সবচেয়ে খুশি হয়েছেন। ৫১ মিনিটে তাঁর নিরীহ এক ট্যাকলে নেইমার ডাইভ দিলে হলুদ কার্ড দেখতে হয় সাকাইকে। ৭৭ মিনিটে থুয়াভিনের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। এ সময় চাপের কারণেই কিছুটা শরীরনির্ভর ফুটবল শুরু করেছিল পিএসজি। ৮৪ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন নেইমার। এর একটু পরেই বোনা সার ও লুকাস ওকাম্পোসের উপর্যুপরি ট্যাকলের শিকার হন নেইমার। রাগ সামলাতে না পেরে উঠে দাঁড়িয়েই ওকাম্পোসকে ধাক্কা দেন। রেফারি ছিলেন ঘটনার সামনেই। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় নেইমারকে।
নেইমারের মেজাজ হারানোর দিনে পিএসজির ত্রাণকর্তা হয়ে এসেছেন এডিনসন কাভানি। ম্যাচের ৯২ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক ফি কিকে গোল করেছেন উরুগুয়ের এই ফরোয়ার্ড। ১০ জনের দল হয়েও প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে এক পয়েন্ট নিয়ে ঘরে ফিরেছে কোচ উনাই এমেরির দল। এই ম্যাচ শেষে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে পিএসজি, মার্শেই আছে পাঁচ নম্বরে। কাভানি-জাদুতে এই মৌসুমে এখনো অপরাজিত থেকে গেল প্যারিসের ক্লাবটি।

বার্সাকে গোল ‘উপহার’ রেফারির!

মৌসুমের প্রথম গোলের আনন্দে মেসিকে জড়িয়ে ধরলেন ইনিয়েস্তা। ছবি: এএফপিন্যু ক্যাম্পে তখন ম্যাচের কেবল দুই মিনিট। দর্শকেরাও পুরোপুরি ধাতস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণের চেষ্টা করেছিলেন বার্সেলোনা লেফট-ব্যাক লুকাস দিনিয়ে। তাঁর ক্রস মালাগার এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে চলে যায় বাইলাইনের ওপাশে। খুব স্বাভাবিকভাবেই গোল কিক ভেবে থেমে গিয়েছিলেন মালাগার ​খেলোয়াড়েরা। কিন্তু দিনিয়ে থামেননি, রেফারি কিংবা তাঁর সহকারীদের কেউই গোল কিকের বাঁশি বাজাননি!
বল বাইলাইন পেরিয়ে গেলেও চলতি বলেই দৌড়ের ওপর আবারও ক্রস করেন দিনিয়ে। মালাগার বক্সে দাঁড়িয়ে থাকা জেরার্ড দেউলোফেউ কোনো রকম বাধা ছাড়াই সেই ‘অবৈধ’ বল পা​ঠিয়েছেন জালে! হতভম্ব মালাগার খেলোয়াড়েরা প্রতিবাদে ছুটে যান রেফারি গঞ্জালো ফুয়ের্তেসের কাছে। কিন্তু তিনি বাজালেন গোলের বাঁশি! অথচ ভিডিও রিপ্লেতে দেখা গেছে, দিনিয়ে দ্বিতীয়বার ক্রস করার আগেই বল চলে গিয়েছিল বাইলাইনের ওপাশে। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, গোটা ন্যু ক্যাম্প তা দেখতে পেলেও শুধু চোখ এড়িয়ে গেছে রেফারি এবং তাঁর সহকারীদের!
​প্রথমার্ধ শেষে তাই ম্যাচ ছাপিয়ে দানা বাঁধতে শুরু করেছিল রেফারি নিয়ে বিতর্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় তুলেছেন ফুটবলপ্রেমীরা। কিন্তু ৫৬ মিনিটে দারুণ এক গোল করে সেই বিতর্ককে কিছুটা হলেও স্তিমিত করে দেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। গোলটা আসলে বার্সার দুই কিংবদন্তির বোঝাপড়ার ফসল। মালাগা বক্সের সামনে থেকে ইনিয়েস্তাকে পাস বাড়ান মেসি। প্রায় ১৬ গজ দূর থেকে স্প্যানিশ মিডফিল্ডারটির বাঁ পায়ের শট মালাগা ডিফেন্ডার রবার্তো রোজালেসের পায়ে লেগে আশ্রয় নেয় জালে। চলতি মৌসুমে এটাই প্রথম গোল ইনিয়েস্তার।
বাইলাইনের বাইরে থেকে ক্রস করছেন দিনিয়ে। কিন্তু রেফারির চোখ এড়িয়ে যায় দৃশ্যটি। ছবি: টুইটা​রলা লিগা ক্যারিয়ারে এ নিয়ে ৩৯১ ম্যাচে বার্সার মোট ৫০০ গোলে প্রত্যক্ষ অবদান রাখলেন মেসি। এর মধ্যে ৩৬০ গোল নিজে করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ১৪০ গোল। তবে মালাগার বিপক্ষে গোল পেতে পারতেন মেসি। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে হেড থেকে তাঁর করা গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল করে দেন রেফারি।
শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয়ে ম্যাচ থেকে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলে নিয়েছে আর্নেস্তো ভ্যালভার্দের দল। তবে প্রথমার্ধের ওই বিতর্কিত গোলের পর থেকে বিরতির আগ পর্যন্ত মালাগার রক্ষণভাগে সেভাবে আক্রমণ করতে পারেনি স্বাগতিকেরা। মেসিদের খেলার ধার বেড়েছে দ্বিতীয়ার্ধে। শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ করেছে মেসি, সুয়ারেজ ও দেউলোফেউকে নিয়ে সাজানো ভ্যালভার্দের আক্রমণভাগ। সেই ধারাবাহিকতায় ৭৪ মিনিটে গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন লুই সুয়ারেজ। সার্জি রবার্তো মালাগার বক্সে ঢুকে পাস দিয়েছিলেন সুয়ারেজকে। উরুগুয়ে ফরোয়ার্ডের সামনে ছিলেন শুধু মালাগা গোলরক্ষক। কিন্তু সুয়ারেজ বলটা কীভাবে গোলপোস্টের বাইরে মারলেন, সেটা শুধু তিনিই বলতে পারবেন।
ম্যাচের ৬৬ শতাংশ সময় বার্সা বল দখলে রাখলেও ভালোই আক্রমণে করছে মালাগা। বার্সার ১২টি আক্রমণের জবাবে ১৩ বার আক্রমণ করেছে টেবিলে তলানির দলটি। এ জয়ে ৯ ম্যাচে মোট ২৫ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রাখল ভ্যালভার্দের দল। তবে রেফারি ফুয়ের্তেসের ‘উপহার’ দেওয়া সেই গোলটি নিয়ে বিতর্ক কিন্তু সহসাই থামছে না। ম্যাচ চলাকালে লা লিগার অফিশিয়াল এক্সপার্ট আন্দুজার অলিভিয়ের রেডিও মার্কাকে বলেন, ‘বল মাঠের বাইরে চলে গিয়েছিল। গঞ্জালো ফুয়ের্তেস কিংবা তাঁর অফিশিয়ালদের কেউই এই অবৈধ ব্যাপারটা দেখেননি এবং গোল দিয়েছেন। এটা আসলে যৌথ ভুল।

নেইমারের জরিমানা ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা!

কর ফাঁকির মামলায় এবার জরিমানার ঝামেলায় পড়লেন নেইমার। ছবি: এএফপিনেইমার কর ফাঁকির মামলায় জড়িয়েছেন দুই বছর আগেই। সে মামলার ‘ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি’ করতে ‘ধোঁকা দেওয়া’র চেষ্টার অভিযোগে পিএসজির ফরোয়ার্ডকে ১২ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা) জরিমানা করেছেন ব্রাজিলের আদালত।
মামলা-প্রক্রিয়ায় বিলম্ব করতেই নেইমার এমন চেষ্টা করছেন বলে মনে করছেন আদালত। বিচারালয়ের সূত্র মারফত ইএসপিএন জানিয়েছে, নেইমার এবং তাঁর বাবা-মা ছাড়াও আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানের ওপর এ জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। মাঠের বাইরে ব্রাজিলিয়ান তারকার সবকিছু তাঁরা নিয়ন্ত্রণ করেন বলেই মঙ্গলবার এ রায় দেন আদালত। নেইমার যে পরিমাণ কর ফাঁকি দিয়েছেন, সে তুলনায় জরিমানার অঙ্কটা মাত্র ২ শতাংশ।
বিচারক কার্লোস মুতা তাঁর রায়ে বলেন, মামলা-প্রক্রিয়ায় নেইমারের ভূমিকা ‘ধোঁকা দেওয়ার মতো এবং সেটা সুবিচার নিশ্চিতকরণের বিপক্ষে’। আদালত মনে করে, বার্সেলোনা ও সান্তোসের সাবেক তারকা ‘মামলা-প্রক্রিয়ায় বাধাদান করে দীর্ঘসূত্রতা বাড়াতে চান’। দুই বছর আগে দায়ের করা সেই মামলায় নেইমারের ৫ কোটি ৫৭ লাখ ডলার মূল্যের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছিলেন আদালত। এ ব্যাপারে বিচারক কার্লোস মুতা তখন বলেছিলেন, বিগত বছরগুলোতে এই করের অর্থ প্রাপ্ত সুদ, আইনি খরচ এবং আর্থিক নিরাপত্তার বিষয় মাথায় রেখে কর ফাঁকির অর্থের তিন গুণ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
পিএসজির তারকার বিপক্ষে অভিযোগ, ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর ফাঁকি দিয়েছেন। ব্রাজিল কর কর্তৃপক্ষের মতে, নেইমার বেশ কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আয়ের মূল অঙ্ক গোপন করেছেন। এতে তাঁর যেখানে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ কর দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে মাত্র ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ কর দেওয়ার রাস্তা খুলে যায়। 

ফিফার সর্বকালের সেরা দলে রোনালদো, জায়গা হয়নি মেসির

রোনালদো ছাড়াও ফিফার সেরা দলে আছে রিয়ালের তারকাপুঞ্জের আরও পাঁচজন। ফাইল ছবিগেমারদের জগতে ফিফার আবেদন আকাশচুম্বী। নব্বইয়ের দশক থেকে ফুটবলপ্রেমীদের তাঁদের প্রিয় তারকা নিয়ে খেলার সুযোগ করে দিচ্ছে এ ভিডিও গেম। এরই মাঝে বাজারে এসে গেছে গেমটির নতুন সংস্করণ ফিফা-১৮। নতুন সংস্করণে সবচেয়ে বেশি রেটিং পেয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ৯৪ পয়েন্ট পাওয়া রোনালদোর চেয়ে এক পয়েন্ট পিছিয়ে লিওনেল মেসি। কিন্তু গেমটির সব সংস্করণ মিলিয়ে যদি কোনো একাদশ করা হয়, তাহলে এ দুজন কি জায়গা পাবেন?
ফিফার রেটিংয়ে সেরা দল। ফাইল ছবিউত্তর হচ্ছে, না! ক্যারিয়ার সেরা বর্তমান রেটিংয়ে রোনালদো জায়গা পেলেও ডান উইংয়ে জায়গা হয়নি মেসির। সে জায়গা নিয়ে নিয়েছেন রোনালদোর স্বদেশি লুইস ফিগো। মেসি ছাড়া ফিফার সেরা একাদশের বাদবাকি নামগুলো অবশ্য চাইলেই ধারণা করে নিতে পারবেন। কারণ, নিজ নিজ সময়ে নিজেদের পজিশনে সেরা খেলোয়াড়ের জায়গাই হয়েছে এ দলে।
গোলরক্ষক: জিয়ানলুইজি বুফন
ফিফার মাঝের বেশ অনেক সংস্করণে সেরা রেটিং নিয়ে শীর্ষে ছিলেন ইকার ক্যাসিয়াস। তার আগে অলিভার কান কিংবা ফ্যাবিয়েন বার্থেজও এ মুকুট পরেছেন। কিন্তু ফিফা-০৫ সংস্করণে বুফনের ৯৭ রেটিংয়ের ধারেকাছে যেতে পারেননি কোনো গোলরক্ষক।
রাইটব্যাক: লিলিয়ান থুরাম
রাইটব্যাক পজিশনে স্মরণকালে অনেকেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। দানি আলভেজ কিংবা ক্যারিয়ারের শুরুতে সার্জিও রামোস। কিন্তু এঁরা কেউই থুরামকে টপকাতে পারেননি। ফিফা-০৫ সংস্করণে ৯২ রেটিং ছিল ফরাসি এই ডিফেন্ডারের।
সেন্টার ব্যাক: ফার্নান্দো হিয়েরো ও আলেসান্দ্রে নেস্তা
রামোস কিংবা ম্যাট হামেলস নন, ডিফেন্সের জায়গা কেড়ে নিয়েছেন সাবেক স্পেন ও রিয়াল মাদ্রিদ অধিনায়ক হিয়েরো। ফিফা-০২ সংস্করণে স্প্যানিশ অধিনায়কের রেটিং ছিল ৯৪। রক্ষণে তাঁর সঙ্গী এসি মিলানের বিখ্যাত সে ডিফেন্সের সদস্য নেস্তা। তাঁকে ৯৪ পয়েন্ট দেওয়া হয়েছিল ফিফা-০৫ সংস্করণে।
লেফট ব্যাক: রবার্তো কার্লোস
এ পজিশনে যে তিনিই থাকবেন এটা সবারই জানা। শুধু ফিফা গেম কেন, বাস্তবেও সর্বকালের সেরাদের একজন কার্লোস। ফিফা-০৫ সংস্করণের ৯৪ পয়েন্টে অনুমিতভাবেই আছেন বিশ্বকাপজয়ী এই ফুলব্যাক।
মিডফিল্ড: জিনেদিন জিদান, লুইস ফিগো, রোনালদিনহো, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো 
মধ্যভাগের দায়িত্ব রিয়ালের তারকাপুঞ্জের কাঁধে। আর তাঁদের সঙ্গী বার্সেলোনার রোনালদিনহো। ফিফা-০২ সংস্করণে ফিফার বর্ষসেরা খেলোয়াড় ফিগোকে ৯৭ পয়েন্ট দেওয়া হয়েছিল। আর জিদান দলে থাকছেন ৯৬ পয়েন্ট নিয়ে (ফিফা-০৫)। মধ্য মাঠে জিদানের সঙ্গী অবধারিতভাবেই রোনালদিনহো, ফিফার ২০০৬ সংস্করণে ৯৫ পয়েন্ট ছিল সময়ের সেরা খেলোয়াড়ের। আর ফিফা-১৮ তে ৯৪ পয়েন্ট পেয়ে লেফট উইংয়ে থাকবেন রোনালদো।
স্ট্রাইকার: রোনালদো, থিয়েরি অরি
‘দ্য ফেনোমেনন’ ফিফার ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেটিংধারী খেলোয়াড়। ফিফার ২০০৪ সংস্করণে ৯৮ রেটিং দেওয়া হয়েছিল তাঁকে! পরের বছরই তাঁকে প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছিলেন আর্সেনালে সোনালি সময় পার করা থিয়েরি অরি

রিয়াল চ্যাম্পিয়ন হয়েও তৃতীয়!

কার্ডিফে গত জুনে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে জুভেন্টাসকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আসরটি থেকে প্রাইজমানি ও রাজস্ব বাবদ রিয়ালেরই বেশি আয় করার কথা। কিন্তু শুক্রবার উয়েফা প্রকাশিত ২০১৬-১৭ মৌসুমের প্রাইজমানি ও প্রাপ্ত রাজস্বের তালিকায় সবচেয়ে বেশি আয় করা ক্লাব রিয়াল নয়, জুভেন্টাস! ভাবছেন, তাহলে রিয়াল হয়তো দ্বিতীয়। কিন্তু অবাক হওয়ার মতো তথ্য হলো, গত আসর থেকে আয়ে রিয়ালকে টেক্কা দিয়েছে লেস্টার সিটির মতো ক্লাবও!
রিয়াল মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়ন হয়েও এই তালিকায় তৃতীয়। গত আসর থেকে সব মিলিয়ে তাদের আয় ৮ কোটি ১০ লাখ ৫১ হাজার ইউরো। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লেস্টার সিটির আয় ৮ কোটি ১৬ লাখ ৮১ হাজার ইউরো। ১১ কোটি ৪ লাখ ৩৪ হাজার ইউরো আয় নিয়ে শীর্ষে জুভেন্টাস।
খেলার ফলের সঙ্গে আয়ের এমন তারতম্যের নেপথ্যে রয়েছে উয়েফার ‘মার্কেট পুল’ নীতি। এ নিয়মের অধীনে অংশগ্রহণকারী দল যে দেশের, সেই দেশে চ্যাম্পিয়নস লিগের টিভি স্বত্বের বাজার অনুযায়ী এই লভ্যাংশ বণ্টন করা হয়। স্পেনে চ্যাম্পিয়নস লিগের টিভি-বাজার অনুযায়ী আসরটির সম্প্রচার স্বত্ব থেকে আয়ের অর্থের ভাগ পেয়েছে রিয়াল। তবে টাকা বণ্টনের ক্ষেত্রে এ নিয়মের অধীনে রয়েছে আরও দুটি শর্ত—প্রথমত, আসরটিতে ওই দল কী পরিমাণ ম্যাচ খেলেছে। দ্বিতীয়ত, নিজ দেশের ঘরোয়া চ্যাম্পিয়নশিপে দলটির কী অবস্থান।
গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলের জন্য নির্ধারিত ছিল ১ কোটি ২৭ লাখ ইউরো। প্রিলিমিনারি ও গ্রুপ পর্বে অংশ নেওয়া সব কটি দলের জন্য মোট আর্থিক বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ১৩৯.৬ কোটি ইউরো। এর মধ্যে শুধু টিভি স্বত্বের চুক্তি থেকে প্রাপ্ত ৫৮ কোটি ইউরো ভাগ করে দেওয়া হয়েছে আসরটিতে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে। তার আগে প্লে অফে অংশ নেওয়া ২০টি দলের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে ৫ কোটি ইউরো। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বে ওঠা ১০টি দলের প্রতিটি পেয়েছে ২০ লাখ ইউরো করে। বাদ পড়ে ইউরোপা লিগে নেমে যাওয়া বাকি ১০টি ক্লাবের প্রতিটি পেয়েছে ৩০ লাখ ইউরো করে।
আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, গত আসর থেকে আয় করা শীর্ষ পাঁচ ক্লাবের মধ্যে ইংলিশ ক্লাব মাত্র একটি—লেস্টার সিটি। ইতালিয়ান ক্লাব দুটি—জুভেন্টাস ও নাপোলি (চতুর্থ)। ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের ক্লাব মোনাকোর অবস্থান পাঁচে। তাদের তিন ধাপ নিচে গত মৌসুমে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ পড়া বার্সেলোনা (অষ্টম)। পরবর্তী দুটি ক্লাব যথাক্রমে পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখ। সূত্র: এএস
                      ২০১৬–১৭ চ্যাম্পিয়নস লিগে আয়ে শীর্ষ পাঁচ ক্লাব
দল
      আয়
             লিগ
জুভেন্টাস
১১ কোটি ৪ লাখ ৩৪ হাজার ইউরো
ইতালিয়ান সিরি আ
লেস্টার সিটি
৮ কোটি ১৬ লাখ ৮১ হাজার ইউরো
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
রিয়াল মাদ্রিদ
৮ কোটি ১০ লাখ ৫১ হাজার ইউরো
স্প্যানিশ লা লিগা
নাপোলি
৬ কোটি ৬০ লাখ ৯ হাজার ইউরো
ইতালিয়ান সিরি আ
মোনাকো
৬ কোটি ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার ইউরো
ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ান

মেসিকে ‘আজীবন চুক্তি’র প্রস্তাব দেবে বার্সা

মেসিকে আজীবন ধরে রাখতে চায় বার্সা। ছবি: এএফপিআন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সঙ্গে এ মাসের শুরুতে ‘আজীবন চুক্তি’ করেছে বার্সেলোনা। এবার লিওনেল মেসির সঙ্গেও একই রকম সম্পর্কের বাঁধনে জড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কাতালান ক্লাবটি। বার্সার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অস্কার গ্রাউ জানিয়েছেন, মেসিকে ‘আজীবন চুক্তি’র প্রস্তাব দেওয়া হবে।
ক্লাব সদস্যদের নিয়ে শনিবার বার্ষিক সাধারণ সভায় বসেছিলেন বার্সা কর্মকর্তারা। সেখানে গ্রাউ বলেছেন, ‘গত জুনে মেসি চার বছরের চুক্তিপত্রে সই করেছেন। কিন্তু ক্লাব তাঁকে আজীবন চুক্তির প্রস্তাব দেবে। লিওর জন্য এ পরিকল্পনার কারণ, শৈশব থেকে সে এখানে আছে এবং আজীবনই থাকবে। কারণ, সে একজন আইকন। আমরা চাই, খেলোয়াড়ি জীবন শেষে সে ক্লাবের সঙ্গে সংযুক্ত থাকুক।’
গত জুলাইয়ে বার্সার সঙ্গে চার বছরের চুক্তি নবায়নে সম্মত হয়েছিলেন মেসি। কিন্তু আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিপত্রে সই করেননি। কিংবা ক্লাব সভাপতি হোসে মারিয়া বার্তোমেউয়ের পাশে বসে মেসির চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করার আনুষ্ঠানিক কোনো ছবিও বার্সা প্রকাশ করেনি। যদিও বার্তোমেউ ​এ নিয়ে বার্সা–ভক্তদের দুশ্চিন্তা করতে মানা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, সবকিছু ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে। এর আগে বার্সা সভাপতি জানিয়েছিলেন, মেসির হয়ে চুক্তিপত্রে সই করেছেন তাঁর বাবা। মেসির সই করার আনুষ্ঠানিকতা সারতে দেরি হওয়ার কারণ স্রেফ সঠিক সময়ের অপেক্ষা।
এবার গ্রাউ জানালেন, মেসিকে আজীবন ধরে রাখতে চায় বার্সা। রোনালদিনহোর পদাঙ্ক অনুসরণ করে মেসি একদিন বার্সার দূত হবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন গ্রাউ। গত জুনে ৩০ বছর বয়স ছুঁয়ে ফেলা মেসির সঙ্গে ক্লাবটির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২০১৮ সালে। ১৩ বছর বয়সে বার্সায় যোগ দিয়ে এ পর্যন্ত ৩০টি শিরোপা জিতেছেন মেসি। বার্সা ও লা লিগার ইতিহাসে তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতাও। এ ছাড়া ‘ফোর্বস’-এর জরিপে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বো​চ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ফুটবলারও মেসি। সূত্র: ইএসপিএন, মার্কা, এএস।